তৈমুর বিন তারাগাই বারুলাস (চাগাতাই ভাষায়: تیمور - তেমোর্, "লোহা") (জন্ম: ১৩২৮/২৯/৩০/৩১/৩২ – মৃত্যু: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৪০৫) ১৪শ শতকের একজন মোঙ্গল দিগ্বিজয়ী সেনাধ্যক্ষ তিনি ফারসি, তুর্কী ও মঙ্গল ভাষায় কথা বলতেন, তবে তিনি তুর্কী ভাষায় সবচেয়ে বেশি কথা বলায় উনাকে ইতিহাসগণেরা তুর্ক-মোঙ্গল নামে অভিহিত করে। তিনি পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজ দখলে এনে তৈমুরীয় সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন যা ১৩৬৯ থেকে ১৪০৫ সাল পর্যন্ত নেতৃত্বে আসীন ছিল। এই অপরাজেয় সমরবিদ ইতিহাসের অন্যতম সফল সেনানায়ক হিসেবে পরিগণিত হন। এছাড়াও তার কারণেই তৈমুরীয় রাজবংশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই বংশ কোনো না কোনোভাবে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নেতৃত্বে আসীন ছিল। তিনি তিমুরে ল্যাংগ্ নামেও পরিচিত, যার অর্থ খোঁড়া তৈমুর। তার আসল নাম সুজাউদ্দিন তৈমুর বা, পৈত্রিক নাম হলো তৈমুর বিন তারাগাই বারুলাস। যুদ্ধ করতে গিয়ে তিনি আহত হন, যার ফলে তার একটি পা অকেজো হয়ে যায় এবং তিনি খোঁড়া বা ল্যাংড়া হয়ে যান। তিনি মহান সেলযুক সাম্রাজ্যের শাসক সুলতান তুঘরিল বেগকে অনুপ্রেরণা হিসেবে অনুসরণ করতেন। তিনি চেঙ্গিস খানের সরাসরি বংশধর না হলেও প্রায় তিন শতাব্দী আগে চেঙ্গিস খানের দুরের এক পৈত্রিক পূর্বপুরুষের অন্য এক পুত্রের বংশধর হিসেবে তৈমুর জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই সেই কারণে আমরা তৈমুরকে চেঙ্গিস খানের পৈত্রিক কুলের অনেক দুরের এক আত্মিয় বলতে পারি, যেহেতু তৈমুরের বারুলাস উপগোত্র ও চেঙ্গিস খানের খিয়াদ উপগোত্র ও উভয় উপগোত্র হলো বিশাল বোরজিগিন গোত্রের বংশিয় অংশ। এবং তিনিও আলেকজান্ডার ও চেঙ্গিস খানের মতো বিশ্বজয়ে সৈন্যবাহিনী নিয়ে বের হয়েছিলেন। এ নিয়ে বিশ্ব বিজেতা তৈমুর লং, দিগ্বিজয়ী তৈমুর, দুনিয়া কাঁপানো তৈমুর লং নামের অনেকগুলো বইও রচিত হয়েছে। তার সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল আধুনিক তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক, কুয়েত, ইরান থেকে মধ্য এশিয়ার অধিকাংশ অংশ যার মধ্যে রয়েছে কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, রাশিয়া, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজিস্তান, পাকিস্তান, ভারতবর্ষ এমনকি চীনের কাশগর পর্যন্ত। তিনি একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করিয়ে যান যার নাম তুজুক ই তৈমুরী।
জন জোসেফ স্যান্ডার্সের মতে, তৈমুর হলেন "একটি ইসলামিক ও ইরানীয় সমাজের ফসল", এবং স্তেপ যাযাবর নয়।
চিত্রশালা

